সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাঙ্গর সবসময় ডলফিন দেখে ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করে কেনো ?



 আপনি জানেন কি সার্ক বা হাঙ্গর  সবসময় ডলফিন দেখে ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করে এবং মহাসাগরে হাঙ্গরের বিচরন ক্ষেত্রে যদি কখনো ডলফিন চলে আসে , তাহলে হাঙ্গর তৎক্ষণাৎ সেই স্থান পরিবর্তন করে ডলফিন থেকে দূরে চলে যায়।  মহাসাগরের এই দুর্দান্ত প্রতাপ শক্তিশালী শিকারি হাঙ্গর কেনো শান্তশিষ্ট খেলাপ্রিয় ডলফিনকে ভয় পায়।  

আমরা সবাই  ডলফিন চিনি এবং জানি , আমাদের জানামতে ডলফিন শান্ত, বুদ্ধিমান , দুরন্ত সুন্দর প্রাণী যারা সাধারণত কোনো ক্ষতি করে না।  কিন্তু মহাসাগরে এরা যখন দলবেঁধে থাকে তখন যদি হাঙ্গরের সাথে সামনাসামনি দেখা হয়ে যায় তাহলে সবাই একসঙ্গে হাঙ্গরের দেহের সর্বস্থানে আক্রমণ করে যার থেকে হাঙ্গরের বাঁচার কোনো পথ থাকে না। দেহের গঠনের দিক থেকে ডলফিন হাঙ্গর থেকে আলাদা এবং দ্রুতগামী।  ডলফিনের সামনের পাখা শক্তিশালী এবং দেহের আবরণ অনেক কোমল ও  মসৃন হওয়ায় হাঙ্গর গতিতে হেরে যায়।  এছাড়া হাঙ্গরের আকৃতি বিশাল হবার জন্য উপর বা নিচে আসতে হাঙ্গরের যে সময় লাগে তার থেকে অনেক কম সময়ে ডলফিন তার স্থান পরিবর্তন করে হাঙ্গরের উপর আক্রমণ চালিয়ে যায়। 



ডলফিন দ্রুত দিক পরিবর্তন করে তার মস্তিষ্কের অগ্রভাগ এবং তীক্ষ্ণ দাঁত দিয়ে হাঙ্গরের পেটের নিচে আক্রমণ করে। ডলফিনের দল একেঅন্যকে হাঙ্গরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং পরপর সবাই হাঙ্গরের পেটের নিচে আক্রমণ করে। যতক্ষণ না পর্যন্ত হাঙ্গর পালিয়ে যাচ্ছে ততক্ষন ডলফিন তাদের আক্রমণ চালিয়ে যায়। ডলফিন একসঙ্গে থাকতে ভালোবাসে আর হাঙ্গর একা থাকতে , ডলফিন তার ইকো লোকেটার দিয়ে অনেক আগেই হাঙ্গরে উপস্থিতি টের পেয়ে যায় এবং দলবেঁধে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ডলফিন যদি একা হাঙ্গরের সামনে চলে আসে তাহলে অন্নান্য ডলফিন সাহায্য করতে তৎক্ষনাৎ চলে আসে। এজন্য হাঙ্গর  সবসময় ডলফিন দেখে ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দশটি অজানা ঘটনা আপনিও জানেন না

জানেন কি শামুক টানা তিন বছর একটানা ঘুমিয়ে থাকতে পারে। শামুক এর বেঁচে থাকার জন্য সাধারনত আদ্র আবহাওয়ার দরকার হয়। বাতাসে আদ্রতা কোমে গেলে অথবা প্রচন্ড গরম আবহাওয়া থেকে বাঁচতে শামুকেরা শীতঘুমে যায় , এরকম অবস্থায় শামুকেরা টানা তিন বছর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে।  জানেন কি মানুষের জিব্বার ছাপ অন্নান্য যেকোনো মানুষের জিব্বার ছাপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়। মানুষের আঙুলের ছাপের মতো , জিব্বার ছাপ অথবা টং প্রিন্ট আলাদা আলাদা হয়। আমাদের জিব্বার উপরিভাগে একপ্রকার স্বতন্ত্র ফিজিওলজিক্যাল টেক্সচার এবং জিওমেট্রিক শেপ এরমতো  ইউনিক আইডেন্টিফায়িং মার্কস থাকে , যা কিনা আলাদাভাবে সনাক্তকরণের কাজে ব্যাবহার করা যেতে পারে। আপনি কি জানেন যে কুমির তার জিভ কখোনো মুখের বাইরে বের করতে পারে না। বি বি সি এর  একটি গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ী কুমিরের জিভ তার মুখের মধ্যে মেমব্রেন দিয়ে আটকানো থাকে তাছাড়া কুমিরের মুখোমণ্ডল সরু এবং লম্বা , এইকারণে কুমির তার জিভ কখোনো মুখের বাইরে বের করতে পারে না। মাছের আঁশ ঠোঁটে : বেশিরভাগ লিপস্টিক তৈরী হয় মাছের আঁশের বাইপ্রোডাক্ট থেকে যার মধ্যে পার্ল এসেন্স নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে।...

নীল তিমির ধমনী দিয়ে আপনি সাঁতার কাটতে চান ?

 জানেন কি নীল তিমির ধমনী দিয়ে আপনি সাঁতার কাটতে পারেন ? হ্যা ঠিকই শুনেছেন , নীল তিমির ধমনী এতো বড়ো যে একটি পূর্ণাঙ্গ বয়সের মানুষ তার মধ্যে দিয়ে সাঁতার কাটতে পারে। পৃথিবীতে জীবিতো প্রাণীদের মধ্যে নীল তিমি সবথেকে বড়ো বিশালাকার প্রাণী এমোনকি বেশীরভাগ ডাইনোসর থেকেও বড়ো।  নীল তিমি লম্বায় প্রায় একশো ফুট এর বেশী হয় এবং ওজনে প্রায় একশো আশি টনের বেশী হয়। নীল তিমির দেহের প্রায় সবকিছু আকারে বড়ো হয় এমোনকি হার্ট এবং ধমনীও। প্রতিটি নীল তিমি গড়ে প্রায় সত্তোর থেকে নব্বই ফুট লম্বা হয় এবং গড় ওজন একশো থেকে একশো পঞ্চাশ টন এর মধ্যে হয়।    নীল তিমির  এতো বড়ো বিশালাকার দেহে রক্ত সঞ্চালনের জন্য বড়ো হার্ট এবং তার সঙ্গে ধমনীও প্রয়োজন। এজন্য নীল তিমির শুধু মহাধমনী এর ব্যাস নয় ইঞ্চিরও বেশী এবং হার্টের ওজনও চারশো পাউন্ড এর বেশী হয়। নীল তিমির হার্ট আকারে প্রায় ছোটো গল্ফ কার্ট বা গো কার্ট এর মতো হয়। নীল তিমির হৃদস্পন্দন প্রায় দুই মাইল দূর থেকে শোনা যায়।  নীল তিমির গায়ের রং কিন্তু নীল নয় , এর গায়ের রং হোলো ধূসর নীল , সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত থাকে জন্য একে দেখতে গাঢ় নীল রং এর লাগে। সবথেকে বড়ো...

Goodbye Password (বিদায় পাসওয়ার্ড)

আর কখনোই পাসওয়ার্ড না:   কথাটা শুনেই মনে হচ্ছে, এটা কি ভাবে সম্ভব। এখনো কি সেই সময় এসেছে, পাসওয়ার্ড এর পরিবর্তে অন্য নতুন মডার্ন সিকুরিটি ফিচার ব্যবহার করিবার? চলুন দেখে নেওয়া যাক- পাসওয়ার্ড আপনার নিজস্বতা সার্বজনীন হবার হাত থেকে রক্ষা করে। আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের কাছ থেকে দূরে রাখতে পাসওয়ার্ড সাহায্য করলেও একটা ঝুঁকি থাকে এবং আপনি100% বিপদমুক্ত না।সাইবার অপরাধীরা আপনার পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করে আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য যেমন, আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, হাতিয়ে নিতে পারে। সত্যি কথা বলতে, আপনার পাসওয়ার্ড এর সাথে দুটো জিনিস হতে পারে,- সহজ পাসওয়ার্ড যা হাকেররা নিমিষেই ক্র্যাক করতে পারে অথবা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড যা আপনি সহজেই ভুলে যাবেন। আবার আপনি একই পাসওয়ার্ড বার বার ব্যাবহার করলে ডেটা ব্রিচ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য আপনি একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে এবং তা যথাযথ জায়গায় ব্যাবহার করতে। একটি অনুমান করা যায়না এমন কঠিন পাসওয়ার্ড ও হ্যাকাররা কিলগার বা ডেটা ব্রিচ এর মাধ্যমে ক্র্যাক করে ফেলে। এসত্বেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যাক্তি ন...