সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

How Hackers Crack Password(কিভাবে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করে)



কিভাবে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড  ক্র্যাক করে: আমরা সবাই খুব কষ্ট করে আমাদের পাসওয়ার্ড মনে রাখি কিংবা প্রায়ই ভুলে যাই। যদি মনে থাকে বা কিছুটা মনেথাকে নিজেদেরকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। দুই /তিন বার ভুল পাসওয়ার্ড চেষ্টা করার পর সেই বিষাক্ত ম্যাসেজ স্ক্রিনে দেখতে শুরু করে "Too Many incorrect attempts ....Your account Locked ".কিন্তু এ থেকে এই ধারণাটা ভুল যে হ্যাকার যে আপনার পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে চাইবে সে ও একই সমস্যার সম্মুখিন হবে। দুঃখের সংবাদ হলো পৃথিবী ঠিক ওই ভাবে চলে না ,বেশিরভাগ পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করা হয় অফলাইনে এবং তাদের কাছে আগেথেকেই একটি ডাটাবেস (Database) থাকে ওই user অক্কোউন্টের। তারা একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড ভাঙতে শুধু বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বন করে। হ্যাকাররা তখনই আপনার একাউন্ট এ লগইন করে যখন তারা আপনার পাসওয়ার্ড টি পেয়ে যায়।

ব্রূট ফোর্স: নামের মধ্যে এটা বেশ প্রতিফলিত হয়েছে। মনে হয় কঠিন কোনো কাজ।  ব্রূট ফোর্স পদ্ধতিতে হ্যাকররা সমস্ত সম্ভাবনাময় শর্ত এবং কম্বিনেশন প্রয়োগ করে একের পর এক। উদাহরণ হিসাবে , একটি ৪ সংখ্যার পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে হোলে ব্রূট ফোর্স পদ্ধতিতে হয়তো ব্যবহার করবে '০০১', তারপর ব্যাবহার করবে '০০০২', তারপর '০০০৩',.....'০১২৩'.....এভৱে সমস্ত সম্ভাবনা খাতিয়ে দেখে যেটা সঠিক সেই কম্বিনেশন ই ব্যবহৃত হয় লগইন করার জন্য। একটি ৪ সংখ্যার মাত্র ১০,০০০ কম্বিনেশন হতে পারে , যা করতে খুব শক্তিশালী কম্পিউটিং পাওয়ার এর দরকার নেই কিংবা খুব বেশি সময় ও দরকার নেই। আরো বড়ো ও জটিল আলফানিউমেরিক (সংখ্যা এবং বর্ণ দুইই থাকে) পাসওয়ার্ড ও ক্র্যাক করা যায় এভাবে কিন্তু অনেক বেশি কম্পিউটার দরকার হয়। খুব দক্ষ হ্যাকারের কাছে সবসময় ফাস্ট কম্পিউইটিং মেশিন থাকে যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বিলিয়ন্স পাসওয়ার্ড ট্রাই করতে পারে।

ডিকশনারি এটাক: এ পদ্ধতিতে হ্যাকররা অনির্দিষ্ট কোনো ক্যারেক্টার কম্বিনেশন ট্রাই না করে (ব্রূট ফোর্স পদ্ধতি ) কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ড লিস্ট ব্যবহার করে। এই লিস্টটিতে ইংলিশ গ্রামার এর সমস্ত ওয়ার্ড ও হতে পারে আবার বেশি প্রচলিত কমন পাসওয়ার্ড (যেগুলো পাসওয়ার্ড হিসাবে বেশি ব্যবহৃত হয় ) হতে পারে। যেমন হ্যালো (hello), পাসওয়ার্ড (password) ইত্যাদি। সেজন্য কমন ওয়ার্ড পাসওয়ার্ড হিসাবে সেট করতে নেই। এটি নির্ভর করে কত স্পেশাল ক্যারেক্টর সাধারণ ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন '@' লিখুন a  এর পরিবর্তে , s  এর  পরিবর্তে ৫.একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড ক্র্যাক করা অনেক সহজ। 'hello@su5mm4n 'পাসওয়ার্ড টি হয়তোবা ক্র্যাক করতে পারবে ,কিন্তু 'H&hel$1%g8#' পারবেনা।

রেইনবো টেবিল: বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে মানা করার পেছনে প্রধান কারণ হলো এ রেইনবো টেবিল। যেসব পাসস্বরদফ অনলাইনে লিক হয়েছে তাদের নিয়ে গঠিত হয় রেইনবো টেবিল। যেকোনো নামী ওয়েবসাইট কখনো আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করে না , বরং এলগোরিদম ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড টিকে একটি নির্দিষ্ট স্বতন্ত্র লম্বা ব্লক ডেটা রূপান্তরিত করে এবং এটিকে হ্যাশ বলে। হ্যাকররা এই চুরি করা হ্যাশ ডেটা গুলো তুলনা করে এবং খুব তাড়াতাড়ি পাসওয়ার্ড বের করে ফেলে। যদিও ওয়েবসাইট গুলি এ থেকে নিস্তার পাবার জন্য সল্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে। সরলভাবে বললে, সলটিং হলো পাসোওয়ার্ড কে আরো জটিল বানানো। যেমন  যদি পাসওয়ার্ডটি 'C@aT' হয় ,তাহলে ওয়েবসাইট সলটিং করবার পর সেটি  'aE53@7C#aT@' রূপান্তরিত হয়।

ফিশিং: এটি হলো চুরি করে সংবেদনশীল তথ্য , পাসওয়ার্ড ,ক্রেডিটকার্ড নম্বর  ইত্যাদি নিজের আয়াত্তে নিয়ে নেয় কোনো এক ইলেকট্রিক কমুনিকেটিং মাধ্যম ব্যবহার করে। সাধারণত এটি করা হয় ইমেইল অথবা ইনস্ট্যান্ট মেসেজ এর মাধ্যমে। এলোমেলো লেখা ইমেইল যেটি ক্লিক এর পর আপনার  সংবেদনশীল তথ্য , পাসওয়ার্ড ,ক্রেডিটকার্ড নম্বর চুরি করে হ্যাকারের কাছে পাঠিয়ে দেয় সম্পূর্ণ আপনার অগোচরে। যেকোনো ইমেইল খোলার পর কোনো ইমেইল এ  প্রদত্ত লিংক এ ক্লিক করার আগে ,সেটির অথেন্টিকেশন(সঠিক পরিচয়) করে নিন।


কিলগিং:এটি সাধারণত ইনস্টল হয় ম্যালওয়ার এটাক এর অংশ হিসাবে, যেটি আপনার সিস্টেমের মধ্যে পরজীবীর মত বসোবাস করে এবং আপনার প্রতিটি কাজের উপর গোয়েন্দাগিরি করে , সমস্ত তথ্য সগ্রহ করে এবং তা পরে ঐ হ্যাকার কে পাঠিয়ে দেয় ,যে আপনার সিস্টেমে ইনফেক্টেড করেছে। সাধারণত কিলগিং আপনার সমস্ত অনলাইন এর কি স্ট্রোক মনিটর করে , পাসওয়ার্ড চিহ্নিত করে যেগুলি আপনি অনলাইনে ব্যবহার করছেন। এটি বেশিরভাগ পুরোনো সফটওয়্যার টার্গেট করে।

আপনার নিজের পাসওয়ার্ড হাকেরদের ক্র্যাক থেকে বাঁচাতে হলে, সবথেকে ভালো উপায় হলো একটি শক্তপোক্ত জটিল আলফানিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার না করা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দশটি অজানা ঘটনা আপনিও জানেন না

জানেন কি শামুক টানা তিন বছর একটানা ঘুমিয়ে থাকতে পারে। শামুক এর বেঁচে থাকার জন্য সাধারনত আদ্র আবহাওয়ার দরকার হয়। বাতাসে আদ্রতা কোমে গেলে অথবা প্রচন্ড গরম আবহাওয়া থেকে বাঁচতে শামুকেরা শীতঘুমে যায় , এরকম অবস্থায় শামুকেরা টানা তিন বছর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে।  জানেন কি মানুষের জিব্বার ছাপ অন্নান্য যেকোনো মানুষের জিব্বার ছাপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়। মানুষের আঙুলের ছাপের মতো , জিব্বার ছাপ অথবা টং প্রিন্ট আলাদা আলাদা হয়। আমাদের জিব্বার উপরিভাগে একপ্রকার স্বতন্ত্র ফিজিওলজিক্যাল টেক্সচার এবং জিওমেট্রিক শেপ এরমতো  ইউনিক আইডেন্টিফায়িং মার্কস থাকে , যা কিনা আলাদাভাবে সনাক্তকরণের কাজে ব্যাবহার করা যেতে পারে। আপনি কি জানেন যে কুমির তার জিভ কখোনো মুখের বাইরে বের করতে পারে না। বি বি সি এর  একটি গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ী কুমিরের জিভ তার মুখের মধ্যে মেমব্রেন দিয়ে আটকানো থাকে তাছাড়া কুমিরের মুখোমণ্ডল সরু এবং লম্বা , এইকারণে কুমির তার জিভ কখোনো মুখের বাইরে বের করতে পারে না। মাছের আঁশ ঠোঁটে : বেশিরভাগ লিপস্টিক তৈরী হয় মাছের আঁশের বাইপ্রোডাক্ট থেকে যার মধ্যে পার্ল এসেন্স নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে।...

নীল তিমির ধমনী দিয়ে আপনি সাঁতার কাটতে চান ?

 জানেন কি নীল তিমির ধমনী দিয়ে আপনি সাঁতার কাটতে পারেন ? হ্যা ঠিকই শুনেছেন , নীল তিমির ধমনী এতো বড়ো যে একটি পূর্ণাঙ্গ বয়সের মানুষ তার মধ্যে দিয়ে সাঁতার কাটতে পারে। পৃথিবীতে জীবিতো প্রাণীদের মধ্যে নীল তিমি সবথেকে বড়ো বিশালাকার প্রাণী এমোনকি বেশীরভাগ ডাইনোসর থেকেও বড়ো।  নীল তিমি লম্বায় প্রায় একশো ফুট এর বেশী হয় এবং ওজনে প্রায় একশো আশি টনের বেশী হয়। নীল তিমির দেহের প্রায় সবকিছু আকারে বড়ো হয় এমোনকি হার্ট এবং ধমনীও। প্রতিটি নীল তিমি গড়ে প্রায় সত্তোর থেকে নব্বই ফুট লম্বা হয় এবং গড় ওজন একশো থেকে একশো পঞ্চাশ টন এর মধ্যে হয়।    নীল তিমির  এতো বড়ো বিশালাকার দেহে রক্ত সঞ্চালনের জন্য বড়ো হার্ট এবং তার সঙ্গে ধমনীও প্রয়োজন। এজন্য নীল তিমির শুধু মহাধমনী এর ব্যাস নয় ইঞ্চিরও বেশী এবং হার্টের ওজনও চারশো পাউন্ড এর বেশী হয়। নীল তিমির হার্ট আকারে প্রায় ছোটো গল্ফ কার্ট বা গো কার্ট এর মতো হয়। নীল তিমির হৃদস্পন্দন প্রায় দুই মাইল দূর থেকে শোনা যায়।  নীল তিমির গায়ের রং কিন্তু নীল নয় , এর গায়ের রং হোলো ধূসর নীল , সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত থাকে জন্য একে দেখতে গাঢ় নীল রং এর লাগে। সবথেকে বড়ো...

Goodbye Password (বিদায় পাসওয়ার্ড)

আর কখনোই পাসওয়ার্ড না:   কথাটা শুনেই মনে হচ্ছে, এটা কি ভাবে সম্ভব। এখনো কি সেই সময় এসেছে, পাসওয়ার্ড এর পরিবর্তে অন্য নতুন মডার্ন সিকুরিটি ফিচার ব্যবহার করিবার? চলুন দেখে নেওয়া যাক- পাসওয়ার্ড আপনার নিজস্বতা সার্বজনীন হবার হাত থেকে রক্ষা করে। আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের কাছ থেকে দূরে রাখতে পাসওয়ার্ড সাহায্য করলেও একটা ঝুঁকি থাকে এবং আপনি100% বিপদমুক্ত না।সাইবার অপরাধীরা আপনার পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করে আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য যেমন, আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, হাতিয়ে নিতে পারে। সত্যি কথা বলতে, আপনার পাসওয়ার্ড এর সাথে দুটো জিনিস হতে পারে,- সহজ পাসওয়ার্ড যা হাকেররা নিমিষেই ক্র্যাক করতে পারে অথবা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড যা আপনি সহজেই ভুলে যাবেন। আবার আপনি একই পাসওয়ার্ড বার বার ব্যাবহার করলে ডেটা ব্রিচ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য আপনি একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে এবং তা যথাযথ জায়গায় ব্যাবহার করতে। একটি অনুমান করা যায়না এমন কঠিন পাসওয়ার্ড ও হ্যাকাররা কিলগার বা ডেটা ব্রিচ এর মাধ্যমে ক্র্যাক করে ফেলে। এসত্বেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যাক্তি ন...