আর কখনোই পাসওয়ার্ড না: কথাটা শুনেই মনে হচ্ছে, এটা কি ভাবে সম্ভব। এখনো কি সেই সময় এসেছে, পাসওয়ার্ড এর পরিবর্তে অন্য নতুন মডার্ন সিকুরিটি ফিচার ব্যবহার করিবার? চলুন দেখে নেওয়া যাক-
পাসওয়ার্ড আপনার নিজস্বতা সার্বজনীন হবার হাত থেকে রক্ষা করে। আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের কাছ থেকে দূরে রাখতে পাসওয়ার্ড সাহায্য করলেও একটা ঝুঁকি থাকে এবং আপনি100% বিপদমুক্ত না।সাইবার অপরাধীরা আপনার পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করে আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্য যেমন, আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, হাতিয়ে নিতে পারে। সত্যি কথা বলতে, আপনার পাসওয়ার্ড এর সাথে দুটো জিনিস হতে পারে,- সহজ পাসওয়ার্ড যা হাকেররা নিমিষেই ক্র্যাক করতে পারে অথবা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড যা আপনি সহজেই ভুলে যাবেন। আবার আপনি একই পাসওয়ার্ড বার বার ব্যাবহার করলে ডেটা ব্রিচ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য আপনি একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে এবং তা যথাযথ জায়গায় ব্যাবহার করতে। একটি অনুমান করা যায়না এমন কঠিন পাসওয়ার্ড ও হ্যাকাররা কিলগার বা ডেটা ব্রিচ এর মাধ্যমে ক্র্যাক করে ফেলে। এসত্বেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যাক্তি নিয়মিত আমাদের ডিভাইস, অনলাইন একাউন্ট সুরক্ষার জন্য পাসওয়ার্ডই ব্যাবহার করি।
যেহুতু বর্তমানে সুরক্ষার জন্য আলাদা পন্থা আবিস্কার হয়ে গেছে, ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডিনটিফিকাশন এর অন্যতম বিকল্প পথ আজ বাস্তব চিত্র।ধন্যবাদ টেকনোলজি কে, নতুন নতুন ডিভাইস তৈরি করে, নতুন টেকনিক ব্যবহার করবার সুযোগ করে দেবার জন্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই আজ ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডিনটিফিকাশন ব্যাবহার করছি, সেটি যাইহোক না কেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখমন্ডল অথবা আইরিশ আইডেন্টিফিকাশন। কিন্তু প্ৰশ্ন হোল কতোটা নিরাপদ এই ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডিনটিফিকাশন?
ফিঙ্গারপ্রিন্ট: ১৯দশকের শেষ দিকে ,যখন ফরেন্সিক বিজ্ঞানের সাফল্য আরো উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা শুরু হয় ,যাদের মধ্যে মানুষের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ,প্রতিটি মানুষকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছিলো। ইটা তো সকলেরই জানা যে প্রতিটি মানুষের আঙুলের চাপ অন্যদের থেকে আলাদা হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনার আঙুলের ছাপ , এই পৃথিবীতে আপনার ছাড়া আর কারো নেই। এই সূত্রকে মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা এটিকে আরো মডিফাই করে মানুষের দিনন্দিন জীবনকে আরো সুরক্ষিত করার কাজে লাগিয়েছে এবং বর্তমান সময়ের সবথেকে বহুল প্রচলিত বায়োমেট্রিক ইডেন্টিফিকশন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই মহাকাশ যুগে বেশিরভাগ ডিভাইস ই ,তৈরী করবার সময়ে বিল্ট-ইন ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার অন্তর্ভুক্ত থাকে। ব্যাক্তিগত সুরক্ষা আরো নিশ্চিত করার জন্য আপনার মোবাইল বা যেকোনো ডিভাইস লক করবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করুন। শুধু লোক করবার কাজে নয় , সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বর্তমান সময়ের বড়ো বড়ো ব্যাঙ্ক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে কণ্টাক্টলেস টাকাপয়সা তোলা /পাঠানোর ব্যাবস্থা চালু করেছে। বাজারের প্রচলিত বেশিরভাগ স্মার্টফোনই এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার থাকা একটি কমন স্ট্যান্ডার্ড।
ফেসিয়াল রিকোগনিশন: প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে চেনার প্রধান মাধ্যম হলো তার মুখ। আমরা আমাদের প্রতিদিনের ব্যাস্ত জীবনে মুখের চেহারা দেখেই প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করে করে চিহ্নিত করি। মুখের ছবি দেখে মানুষকে চিহ্নিত করার প্রথা সমস্ত জায়গায় ব্যবহৃত হয় ,যেমন আমাদের পাসপোর্টে, জাতীয় পরিচয়পত্রে , ড্রাইভিং লাইসেন্সে ইত্যাদি।
![]() |
| Credit Media |
যখন আপনার স্মার্টফোন /ডিভাইস এবং ব্যাক্তিগত তথ্য সাইবার ক্রিমিনাল থেকে সুরক্ষা প্রধান অবগত বিষয় তখন ফেসিয়াল রিকোগনিশন সামনে এছেসে এবং এন্ড্রয়েড ফোনে ফেসিয়াল রিকোগনিশন সেন্সর আরো বেশি সাইবার সুরক্ষা দিয়েছে ,যদিওবা আন্ড্রয়েড ফোনের ফেসিয়াল রিকোগনিশন প্রসিডিওর ১০০% নিরাপদ নয়। কারণ আপনি সহজেই এটি এড়িয়ে যেতে পারেন ,আপনার তোলা ছবি মোবাইল এর ক্যামেরার সামনে রেখে মোবাইল টি আনলক করতে পারেন। কারণ বেশির ভাগ আন্ড্রয়েড ফোনে কোন মুখের ৩ডি স্ক্যান করে না , করে ২ ডি স্ক্যান। তবে আপেল কোম্পানি ২০১৭ সালের পর উন্নতমানের ফেসিয়াল রিকোগনিশন করাবার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও শক্তিশালী ফেসিয়াল রিকোগনিশন সেন্সর ব্যবহার করে, যেটি আপনার মুখের ৩ডি স্ক্যান করে। এটি বেশি সুরক্ষিত কারণ ৩ডি স্ক্যান জটিল টেকনোলজি ব্যাবহার করে, যেটিকে TrueDepth বলে।
আইরিশ রিকগনিশন: এই পদ্ধতিতে আপনার চোখের মণির সম্পূর্ণ সতন্ত্র বিভিন্ন কালার স্ক্যান করে এবং আপনার আইডেন্টি আলাদা করে সেভ করে রাখে।এই রেটিনা গঠন প্রতিটি মানুষের আলাদা হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মত স্বতন্ত্র ও আলাদা হয়।বর্তমানে কিছু উচ্চ মানের এন্ড্রয়েড ফোন আইরিশ রিকগনিশন সিস্টেম চালু করেছে যেমন সামসুং গ্যালাক্সি s8।কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে হ্যাকাররা সেটি ক্রাক করতে সক্ষম হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।তাছাড়া আপনার ডিভাইস টি আনলক করিবার জন্য প্রত্যেক বার খুব সাবধানে সতর্কতা অবলম্বন করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট কোনে চোখ বার বার করে রাখতে হবে, যেটা মনে হয় না খুব সাচ্ছন্দের হবে বরং অস্বস্তির মনে হবে।
![]() |
| Credit Media |
ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডিনটিফিকাশন গুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিং পদ্ধতি বেশি সুরক্ষিত বলা যেতে পারে কারণ কোনো সাইবার ক্রাইম এ যুক্ত ব্যক্তি আপনার আঙ্গুল এর ডুপ্লিকেট রেপ্লিকা তৈরি করতে পারলেও সে সফল হবে না । তাকে সফল হতে গেলে অবশ্যই আপনার ডিভাইস টি তার কাছে কাছে থাকতে হবে।
শেষে সবদিকে সামঞ্জস্য রেখে ,আপনার নিজস্বতার সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য টু-ওয়ে-এথেন্টিকেশন ব্যাবহার করা উচিত হবে। সোজা বাংলায় পাসওয়ার্ড এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিং পদ্ধতি একই সঙ্গে ব্যবহার করা।






মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন